২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দুটি নাম এখনো লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বয়সের ভার কাঁধে নিয়েও আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের এ দুই কিংবদন্তি আবারও প্রমাণ করছেন, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাদের উপস্থিতি এখনো কতটা প্রভাব রাখে।
দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনা পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষে উঠে গেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় শুধু আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তাই তুলে ধরেনি, বরং মেসির নেতৃত্বের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনেছে। পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি চোখে পড়েছে তার খেলার বুদ্ধিমত্তা। মাঝমাঠ ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং তরুণ সতীর্থদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি—সবখানেই ছিল তার স্বাক্ষর। তবে মেসির খেলায় কিছু সীমাবদ্ধতাও খুঁজে পেয়েছেন ফুটবলবোদ্ধারা। তাদের কথা, আগের মতো দীর্ঘ সময় উচ্চগতিতে প্রেসিং বা বারবার ডিফেন্স ভেঙে যাওয়ার ক্ষমতার মাত্রা নিম্নমুখী। ফলে কোচ স্কালোনি তার চারপাশে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন। বলা হচ্ছে, এটিই মেসির নতুন রূপ—কম দৌড়, বেশি প্রভাব। অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালও দুই ম্যাচ শেষে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে তারা নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে রোনালদোর উপস্থিতি পুরো দলকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। বয়স ৪১ ছুঁলেও বক্সের ভেতরে তার অবস্থান, ফিনিশিং প্রবৃত্তি এবং নেতৃত্ব এখনো অসাধারণ। হিউসটনের প্রেসবক্সে বসে প্রমাণ মিলল তার। বিশ্বকাপের দুই ম্যাচ শেষে স্পষ্ট বোঝা গেল, মেসি-রোনালদোর খেলায় বয়সের ছাপ স্পষ্ট। তুলনা করলে বেশি বয়সের ছাপ পড়েছে রোনালদোর খেলায়। খোলা জায়গায় আগের মতো গতি নেই, বল নিয়ে লম্বা দৌড় নেই বললেই চলে। ফলে তাকে ঘিরেই আক্রমণ সাজাতে হচ্ছে পর্তুগালকে। তবে সুযোগ পেলেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা যে এখনো তার আছে, সেটি বারবার দেখা যাচ্ছে। দুই কোচই তাদের মহাতারকাদের নিয়ে উচ্ছ্বসিত। আর্জেন্টিনা শিবিরে মেসিকে এখন শুধু একজন খেলোয়াড় নয়, বরং মাঠের ভেতরের অতিরিক্ত কোচ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে পর্তুগালের কোচ রোনালদোর পেশাদারিত্ব, অনুশীলনের মানসিকতা এবং তরুণদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দর্শকদের কাছেও দুজনের গ্রহণযোগ্যতা বিস্ময়কর। স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের ম্যাচগুলোতে সবচেয়ে বেশি জার্সি দেখা গেছে মেসি ও রোনালদোর নামাঙ্কিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম—সবখানেই তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশংসার ঝড় বইছে। অনেকের কাছে এটি দুই কিংবদন্তির শেষ বিশ্বকাপ, ফলে প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি পাস ও প্রতিটি গোলই যেন ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠছে। তুলনামূলক বিচারে মেসি এখনো ম্যাচের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে। তিনি পুরো দলের খেলাকে প্রভাবিত করছেন। অন্যদিকে রোনালদো বেশি কার্যকর প্রতিপক্ষের ছোট ডি বক্সে, বিশেষ করে গোলমুখে। একজন সৃষ্টিশীল পরিচালক, অন্যজন নিষ্ঠুর সমাপ্তিকারী। ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় আর্জেন্টিনা শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার। পর্তুগালও নকআউটে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হতে পারে, যদি তাদের আক্রমণভাগ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে। তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত—মেসি ও রোনালদো এখনো বিশ্বকাপের গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। বয়স তাদের গতি কমিয়েছে, কিন্তু প্রভাব নয়।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
